তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রথম দফার (জুলাইয়ের) যন্তরমন্তর বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে নাজেহাল হতে হয়েছিল। প্যালেট গান ব্যবহারের মতো ঘটনা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। এবার শনিবারের দ্বিতীয় দফায় তেলাপোকা পার্টির যন্তরমন্তর-২ বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতরকমভাবে জোরদার করা যায় তার চেষ্টা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তটস্থ অবস্থা। দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সরাসরি অধীনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আর তাই বিভিন্ন রাজ্য সফরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাতিল করে দিল্লিতেই থেকে গিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে ২৩ হাজার তথা ২৩১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীকে দিল্লির নিরাপত্তার জন্য উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এই বাহিনীতে রয়েছে, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ), ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি), সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর জওয়ানরা। তথ্য অনুযায়ী, কোনো বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বৃহত্তম ঘটনা। এর আগে জি২০ সম্মেলনের আগে এত বৃহৎ সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল নিরাপত্তার স্বার্থে।
জানা গেছে, আধাসামরিক বাহিনীকে মধ্য দিল্লিতে ভিড় সামলানো, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সহায়তা করার জন্য আনা হয়েছে। পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, মাঠে দিল্লি পুলিশের অন্তত ১৫ হাজার সদস্যকেও মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তবে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’-কে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুক্তি, সংগঠনটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লি পুলিশ প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও, সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, তারা ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বলা হয়েছে, গোটা দিল্লি প্রয়োজনে যন্তরমন্তরে পরিণত হবে। অনুমান করা হচ্ছে, এই বিক্ষোভ কর্মসুচিতে সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ তরুণ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন।
বিক্ষোভকারীর সংখ্যা নিয়ে দিল্লি পুলিশ তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এতটাই বিচলিত যে, জনস্রোত ঠেকাতে নানা ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। মধ্য দিল্লির সাথে সংযোগকারী রুটের অন্তত ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার জন্য পুলিশ দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সিজেপির আগের বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া হাজার হাজার ব্যক্তির ওপর নজর রাখছে এবং রাজধানী দিল্লির দিকে আসা বাসগুলোর গতিবিধির ওপরও নজরদারি চালাচ্ছে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘পেয়িং গেস্ট’ (পিজি) আবাসনের মালিকদের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ না নেয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি পুলিশের আহ্বান জানানোর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বৃহস্পতিবার ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে বলেছেন, ‘কোন অধিকারে পুলিশ বাহিনী নাগরিকদের কোনো বিক্ষোভে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে ‘আহ্বান’ জানায়?’ বিক্ষোভের অধিকারকে সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে দাস বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন এবং কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন—হয় তাদের জন্য যন্তর মন্তরের ব্যবস্থা করা হয়, নতুবা পুরো দিল্লিকেই যন্তর মন্তরে পরিণত হতে দেখা যাবে।
দিল্লি আম আদমি পার্টির (আপ) সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, ‘আপ’ এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ‘এএসএপি’ -এর সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাদের ফোনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী যদি সমবেত হন, সরে যেতে অস্বীকার করেন এবং স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার বরণের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অস্থায়ী আটক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ আলোচনা করেছে। ২ অক্টোবর থেকে দেশ জুড়ে তেলাপোকা পার্টির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), বাম দলগুলো এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলোর সাংসদরাও দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।